জৈব সার

0
15
জৈব সার
জৈব সার

যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণির ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায় তাদেরকে জৈব সার বলে। যেমনঃগোবর সার,সবুজ সার,খৈল ইত্যাদি। গাছের প্রায় সব খাদ্য উপাদানেই জৈব সারে থাকে।

 

জৈব সারের বৈশিষ্ট্য  ও উপকার

ক) গাছকে সব প্রকার খাদ্য যোগায়।
খ) মাটির তাপমাত্রা বাড়ায়।
গ) মাটির গঠন ও গ্রহনের উন্নতি করে।
ঘ) মৃত্তিকাস্থিত জীবাণুগুলোর বংশবৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ায়।
ঙ) মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
চ) রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়ায়।
ছ) মাটির মধ্যে বায়ু চলাচলের সাহায্য করে।
জ) মাটির অম্লত্ব, ক্ষারত্ব ও লবণাক্ত সংশোধনে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

 

জৈব সার প্রয়োগের পদ্ধতিঃ 

১) ফসল বোনা বা চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে প্রথম লাঙ্গল জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
২) মাটিতে প্রয়োগের সময় জমিতে রস থাকা দরকার।
৩) মাদা ফসলে জৈবসার মাদাতে দিতে হবে।
৪) জমিতে জৈব সার ভাল করে সমানভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

কোন ফসলের কি পরিমাণ জৈব সার :

 

গোবরসার বা কম্পোষ্ট  -৩০ কেজি (আলু ও সব্জির জন্য)                     ধান ও অন্যান্য-    (২০ কেজি)
খইল                                -৩ কেজি (আলু ও সব্জির জন্য)                       ধান ও অন্যান্য-   (২ কেজি )
পোন্ট্রী লিটার                   -১৫ কেজি (আলু ও সব্জির জন্য)                    ধান ও অন্যান্য-    (১০ কেজি)
হাড়গুঁড়ো                         -২ কেজি (আলু ও সব্জির জন্য)                     ধান ও অন্যান্য-   (১.২ কেজি)

 

 

 

জমিতে জৈব সার কেন ব্যবহার করবেন

 

 

১। বাংলাদেশের মাটিতে ২% এর কম জৈব পদার্থ রয়েছে যদিও তা ৩%-৫% থাকা উচিৎ। তাই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমান বৃদ্ধির জন্য জৈব সার ব্যবহার করা উচিৎ।

 

২। মাটি গঠন ও গুনাগুন উন্নত করে। বেলে মাটি সরস হয়। তাছাড়া এঁটেল মাটিকে কিছুটা দোআঁশ মত করে ফসল উৎপাদনের অধিক উপযোগী করে তোলে।

 

৩। জৈব সার ব্যবহারের পর গাছের প্রয়োজন অনুযায়ি অনেকদিন ধরে গাছ খাদ্য উপাদান গ্রহন করতে পারে। জমিতে প্রয়োগের পর আনুমানিক ৬-১৮ মাস পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে যা পরবর্তি ফসলে কাজে লাগে।

 

৪। জৈব সার ব্যবহারে মাটির উপকারী জীবানুর কার্য্কলাপ বেড়ে যায় এবং এদের বংশ বিস্তারেও তা সহায়ক হয়।

 

৫। এ সার গ্রিষ্মকালে মাটিতে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় এবং শিতকালে মাটিকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে। এতে সব ঋতুতেই গাছের শিকড় বৃদ্ধি পায়।

 

৬। এ সার মাটিতে রস মজুদ রাখতে সহায়তা করে। ফলে অধিক সেচের প্রয়োজন হয় না।

 

৭। মাটিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অধিক ব্যবহারের কোন বিষাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হলে জৈব সার তা কমাতে সাহায্য করে। জৈব সার বেশি ব্যবহারে মাটির কোন ক্ষতি হয় না।

 

৮। জৈব সার রাসায়নিক সারের কার্যএকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং জৈব সার ব্যবহার করলে আনুপাতিক হারে রাসায়নিক সারের মাত্রা কমান যায়।

 

৯। জৈব সার ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে গুনগত মান বাড়ায় এবং গুদাম জাত ও শস্য সংরক্ষনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

অনলাইনে জৈব সার কোথায় পাওয়া যায়ঃ

দোকানের পাশাপাশি জৈব সার এখন কিনতে পারবেন অনলাইনে। কিনতে ক্লিক করুন নিচে দেয়া  জৈব সার লেখার উপর।

 

 

জৈব সার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here