জুঁই ফুল চাষ

0
21
জুঁই ফুলের চাষ
জুঁই ফুলের চাষ

আমাদের দেশে বিচিত্র ধরনের অসংখ্য ফুল রয়েছে । প্রকৃতিগতভাবে এই ফুল গুলো নিজ থেকেই যার যার মত গুন ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে।তেমনি আমাদের দেশের নানান ফুলের বৈচিত্র্যের মধ্যে জুঁই ফুল অন্যতম।

জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

অবাধ সূর্যের আলো পায় এমন উঁচু বেলে দোয়াশ মাটি জুঁই ফুল চাষের জন্য উপযোগী। জুঁই ফুল চাষ পদ্ধতি তে সঠিক সেচ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সার প্রয়োগ এবং গাছ ছাটাই করে রাখতে পারলে জুঁই ফুল বেশ ভালোভাবেই চাষ করা যায়। এটি একটি গুল্ম জাতীয় গাছ । গাছের উচ্চতা ৫ থেকে ৬  ফুট এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। গ্রীষ্মকালে থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই গাছে সাদা রং এর তারার মত সুগন্ধযুক্ত ছোট ছোট ফুল আসে। এছাড়া হলদে রঙের ফুল ও দেখা যায়।

জুঁই ফুলের বংশ বিস্তার :

জুঁই ফুল চাষ পদ্ধতি এর অন্যতম একটি বিষয় এর বংশবিস্তার। সাধারনত শাখা কলম এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়। আবার কিছু প্রজাতিতে কোন গাছের শিকড় থেকে পাস্তেউর উৎপন্ন হতে দেখা যায় পরবর্তীতে এই গাছ গুলোকে আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানে লাগালে চলে।
জুঁই ফুলের বংশ বিস্তার করার সহজ উপায় হলো ডাল কলম বা কাটিং । ডাল কলম করার জন্য ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার আকারের পুরাতন ডালের অংশ কেটে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এই অংশটিতে যেন তিন থেকে চারটি চোখ থাকে। ডালটির নিচের দিকে কিছু পাতা ফেলে দেয়া উচিত । ডাল গুলি বসানোর আগে নিচের দিকের অংশে সেরা ডেস্ক হরমোন লাগিয়ে নিলে খুব সহজেই দ্রুত শেকড় গজায়। তবে কাটিং থেকে চারা তৈরি করার সময় কাটিং গুলোকে অবশ্যই ছায়াযুক্ত স্থানে বসাতে হবে । কাটিং রোপনের সময় সঠিকভাবে বীজতলা তৈরি করে নিতে হবে এর জন্য দুই ভাগ দোআঁশ মাটি দুই ভাগ পাতা পচা সার একভাগ শুকনো গোবর এক ভাগ কাঠের ছাই ৪ থেকে ৫ ভাগ বালির মিশ্রণ একত্রে মিশিয়ে চারা তৈরীর মত বেড তৈরি করে নিতে হবে। এবং এর উপর কাটিংগুলো ৫ ইঞ্চি গভীরে বসাতে হবে কাটিংগুলো জমিতে বসানোর পর নিয়মিত জারির মাধ্যমে পানি দিতে হবে এসব গুলো নিয়ম মেনে কাটিং ভাসানে এক মাসের মধ্যেই সবগুলো কাটিং থেকে শিকড় গজানো শুরু করবে তবে এই কাজটি বর্ষাকালে করা সবচাইতে ভালো।

জুঁই ফুল গাছের যত্ন ও পরিচর্যা

জুঁই ফুল গাছে সার প্রয়োগ

এই গাছের নরম ও বর্ধনশীল কান্ড ও শাখাতে কুঁড়ি আসে। এই কারণে দ্রুত বর্ধনশীল এইসব কাজে যথেষ্ট সারের প্রয়োজন হয় গাছ ছাঁটাইয়ের পর পর জানুয়ারি মাসে একবার ও বর্ষার শুরুতে জুলাই মাসে আরও একবার সার দেয়ার দরকার পড়ে । গাছ যদি জমিতে লাগানো হয়ে থাকে তবে প্রতিবার এ গাছ প্রতি ৫কেজি আবর্জনা পচা সার ৩০০ গ্রাম অ্যামোনিয়াম সালফেট ৭৫০ গ্রাম সুপার ফসফেট এবং ২০০ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ সার প্রয়োগ করা দরকার । গাছের চারদিকে অগভীর নালা করে মাটির সাথে মিশিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে।

জুঁই ফুল গাছ ছাঁটাই

জুঁই ফুলের উৎপাদন অনেক টা গাছ ছাঁটাইয়ের উপর নির্ভর করে । জুয়েলের জন্য মাটি থেকে ৪০-৪৫সেন্টিমিটার উপর দরকার দেখা গেছে সাধারণ গাছে ঊর্ধ্বমুখী ডালের চেয়ে পার্শ্বমুখী ডালে বেশি ফুল ফোঁটে। গাছ ছাটাই এর আগে ও পরে ১০-১৫ দিন বিশ্রাম দিয়ে শীতের শেষের দিকে জমি চাষ দিতে হবে।

পানি সেচ

বড় কুড়ির জন্য নিয়মিত সেচ দেয়া বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয় । জানুয়ারি মাসের সার প্রয়োগের পর থেকে প্রতি চার দিন অন্তর অন্তর সেচ দিতে হবে। তাতে বড় বড় কুড়ি আশার সম্ভাবনা বেশি সেই সঙ্গে ফুলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

জুঁই ফুল গাছের পোকা মাকড় দমন

জুঁইফুল গাছে মাকড় ও পত্রভুক পোকার আক্রমণ দেখা যায়। জুঁই ফুল চাষ পদ্ধতি তে এই গাছের পোকা মাকড় দমন করতে ভারমিটেক ও ইমিটাফ স্প্রে করতে হবে।

 

অনলাইনে গাছপালা কোথায় পাওয়া যায়ঃ

 

নার্সারির পাসাপাসি গাছপালা কিনতে পারবেন এখন অনলাইনে ।গাছপালা কিনতে ভিজিট করুন নিচে দেয়া নার্সারী লেখার উপর এবং অর্ডার করতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকেঃ

গাছ